যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, যা মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক অস্থিরতা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই রদবদল ও পদত্যাগের ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ পরিচালনা করছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের এই অভ্যন্তরীণ সংকট মার্কিন সামরিক সক্ষমতা এবং বিশ্বজুড়ে আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেন। ড্রিসকলের এই প্রস্থান পেন্টাগনের ভেতরে সামরিক সংস্কারের প্রকৃতি ও গতি নিয়ে হেগসেথের সঙ্গে চলমান ক্ষমতার লড়াইয়েরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। ড্রিসকলের পদত্যাগ প্রসঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস হেগসেথের ব্যবস্থাপনা কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এছাড়া ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি বাহিনীর আধুনিকায়ন এজেন্ডাকে ব্যাহত করবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ শুরু থেকেই সামরিক বাহিনীতে ‘সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের’ কথা বলে আসছেন। তিনি বাহিনী থেকে তথাকথিত ‘ওক’ বা প্রগতিশীল নীতিগুলো বাদ দেওয়া এবং সামরিক শৃঙ্খলার কঠোর প্রয়োগের ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি এখন পর্যন্ত নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের বহু কর্মকর্তা এবং দুই ডজনেরও বেশি জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে হয় অব্যাহতি দিয়েছেন নতুবা সরিয়ে দিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, এই শুদ্ধি অভিযান বাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামো ও প্রস্তুতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
ইরান ইস্যুতে চলমান সামরিক অভিযানের ফলে ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সম্পদের পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে। এর ফলে ইউরোপে ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তার অভাব বোধ হচ্ছে এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের বিপরীতে মার্কিন উপস্থিতিও কিছুটা শিথিল হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেন্ট্রাল ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হওয়ায় মার্কিন মজুত এখন আগের চেয়ে কমেছে।
তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা রয়েছে হেগসেথের ওপর। মার্কিন প্রশাসনের মতে, বাহিনী এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং কমান্ডার-ইন-চিফের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ ও রসদ রয়েছে। এদিকে ইরান ইস্যুতেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অবস্থান অটল রেখেছে, যেখানে তারা তেহরানের প্রচলিত সামরিক হুমকি অনেকটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করছে।