অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘প্যারাসুট সায়েন্স’ বা উচ্চবিত্ত দেশগুলোর একক আধিপত্যের সমালোচনা করে নতুন এক বৈশ্বিক কৌশল সামনে এনেছেন। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের গ্লোবাল চেঞ্জ ইকোলজি ল্যাবের প্রধান ড. শাওয়ান চৌধুরী। বায়োসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও বেশি পতঙ্গ প্রজাতি ক্রান্তীয় অঞ্চলে বসবাস করলেও সংরক্ষণ নীতিমালায় এই অঞ্চলগুলো মারাত্মকভাবে অবহেলিত।
পতঙ্গরা বাস্তুসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান চালিকাশক্তি। এরা বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও বেশি বুনো উদ্ভিদের পরাগায়ন করে এবং পাখির খাদ্যের একটি বড় উৎস। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণা আসে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল থেকে, যেখানে মাত্র ২০ শতাংশ পতঙ্গ প্রজাতি বিদ্যমান। ড. শাওয়ান চৌধুরীর মতে, এই ভারসাম্যহীনতার কারণে যে অঞ্চলে পতঙ্গ সবচেয়ে বেশি, সেখানেই সংরক্ষণের তথ্য ও অবকাঠামোর ব্যাপক ঘাটতি রয়ে গেছে।
গবেষক দলটি পতঙ্গ সংরক্ষণে চারটি প্রধান অন্তরায় চিহ্নিত করেছে: বিদ্যমান গবেষণার বৈশ্বিক প্রচারের অভাব, তথ্যের ঘাটতি, বৈজ্ঞানিক অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং কার্যকর উদ্যোগের অভাব। এই সমস্যা সমাধানে তারা প্রচলিত গবেষণার বাইরে স্থানীয় জ্ঞান, জাদুঘরের সংগ্রহ, নাগরিক বিজ্ঞান এবং সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
গবেষণায় উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, প্রজাপতি নিয়ে হওয়া ১১২টি গবেষণার মধ্যে মাত্র ৩৪টি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৬৯টি বিপন্ন প্রজাতির মধ্যে ১৬৭টির রেকর্ড পাওয়া গেছে, যা প্রথাগত তথ্যের বাইরের উৎসগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা প্রমাণ করে।
গবেষকদের মতে, ‘প্যারাসুট সায়েন্স’ বন্ধ করে স্থানীয় বিজ্ঞানী ও সম্প্রদায়কে গবেষণার মূল অংশীদার করতে হবে। শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায় থেকে বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্য পূরণ সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।