যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান হবে। ডালাসে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে মনে করছেন তিনি।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরানের বর্তমান সরকার মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য হলো বর্তমান রিপাবলিকান সরকারকে সরিয়ে এমন একটি পক্ষকে ক্ষমতায় আনা, যারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে নমনীয় থাকবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান কেবল পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে, যা পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি হতে পারে।
পরমাণু চুক্তি নিয়ে বর্তমান অবস্থান
ইরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো পরমাণু আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তার লক্ষ্য এখন কেবল পরমাণু চুক্তির সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর চেয়েও বেশি কিছু। তার মতে, বর্তমানে আলোচনার চেয়ে সামরিক চাপ প্রয়োগকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নতুন করে পরমাণু চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর পরিবর্তে ইরানের পরমাণু অবকাঠামো দুর্বল করতে মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সফল হামলার কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
যুদ্ধের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানের পাঁচটি ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ওপর সামনে আরও কঠোর সামরিক অভিযান চালানো হবে।