যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আয়োজিত রিপাবলিকান পার্টির এক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যে হারে বাড়ছে, তা নির্বাচনের পরেই স্থিতিশীল হবে বলে তিনি দাবি করেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এল যখন যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে খোদ তার দলেই অসন্তোষ বাড়ছে।
যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি
ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধার ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
নির্বাচনে প্রভাবের দাবি
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে চাইছে যাতে ডেমোক্র্যাটরা জয়লাভ করে। তবে তিনি তার এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরপরই তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। বর্তমানে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে এবং রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
সামরিক সংঘাত ও ক্ষয়ক্ষতি
সম্প্রতি জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের পাঁচটি তেলের ট্যাঙ্কার ধ্বংস করেছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।