ল্যাটিন আমেরিকার ১৬টি দেশে নিজেদের কমিউনিটি নোটস কর্মসূচি পরীক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ শুরু করেছে মেটা। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়েতেমালা, হন্ডুরাস, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, পানামা, প্যারাগুয়ে, পেরু, উরুগুয়ে এবং ভেনিজুয়েলায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং থ্রেডসের ব্যবহারকারীদের তথ্যে অতিরিক্ত প্রেক্ষাপট যোগ করার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পরীক্ষামূলক এই পর্যায়ে ব্যবহারকারীদের লেখা নোট সরাসরি প্রকাশ করা হবে না এবং তৃতীয় পক্ষীয় ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলে মেটা নিশ্চিত করেছে। তবে কোম্পানিটির ভাষ্যমতে, এই পদ্ধতি সফল হলে ভবিষ্যতে দেশগুলোতে প্রচলিত ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থার পরিবর্তে কমিউনিটি নোটসকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
মেটার এই পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট-চেকিং নেটওয়ার্ক (আইএফসিএন)। সংস্থাটির মতে, ক্ষতিকর মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধে কমিউনিটি নোটস এককভাবে যথেষ্ট নয়। মেটার নিজস্ব তদারকি বোর্ড (ওভারসাইট বোর্ড) এর আগেও সতর্ক করেছিল যে, কমিউনিটি নোটসকে কখনোই প্রচলিত ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ মেরুকরণ, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বা পরিকল্পিত অপপ্রচারের ইতিহাস রয়েছে এমন দেশগুলোতে এই কর্মসূচি চালুর ঝুঁকি অনেক বেশি। নিকারাগুয়া, এল সালভাদর এবং ভেনেজুয়েলার মতো অস্থির পরিস্থিতির দেশগুলোতে মেটা এই পরীক্ষা চালাচ্ছে বলে আইএফসিএন উল্লেখ করেছে। এদিকে, মেটা জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ লাখ ব্যবহারকারীর অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি সফল হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, প্রচলিত ফ্যাক্ট-চেকারদের তুলনায় কমিউনিটি নোটস অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।