আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে। দেশটির সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এই সফর প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আয়ারল্যান্ডের সানডে ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং আয়ারল্যান্ড থিংকসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৬৯ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের এই সফর সমর্থন করছেন না। ট্রাম্পের সফরের প্রতিবাদে শনিবার ডাবলিনসহ পুরো আয়ারল্যান্ডে বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে।
আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অবিশ্বস্ত শক্তি হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। সফরকালে ট্রাম্পের সঙ্গে দেশটির নেতৃত্বের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আয়ারল্যান্ডের অনেক নাগরিক মনে করেন, কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখলেও জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটা জরুরি।
ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়ারল্যান্ড সরকার প্রায় ৪ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করছে। এর মধ্যে ১ হাজার মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট ও ড্রোন-বিধ্বংসী প্রযুক্তি রয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ট্রাম্প দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ডুনবেগে নিজের মালিকানাধীন রিসোর্টে আয়োজিত আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্ট পরিদর্শনে যাবেন।
গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলকে সমর্থনের কারণে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন। ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের শিক্ষার্থী শন র্যাডক্লিফ জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনে গণহত্যার সহায়তাকারী হিসেবে ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন তারা। দেশটির বিরোধী দল শিন ফেইনও এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
আয়ারল্যান্ড ঐতিহাসিকভাবেই ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম দেশ। দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই সফরকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসছে।