জিনোমের ভেতরে আলঝেইমারের নতুন স্তরের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

September 13, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ এবং কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আলঝেইমার রোগের ক্ষেত্রে জিনের গঠনের এক নতুন ও লুকানো স্তরের সন্ধান পেয়েছেন। বিজ্ঞানীদের এই দলটি দেখতে পেয়েছে যে, আলঝেইমার আক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কের কোষে ডিএনএ-র ত্রিমাত্রিক বা ৩ডি বিন্যাসে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এই পরিবর্তন কোষের গুরুত্বপূর্ণ জিনগুলোকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে, যা রোগটিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে বুঝতে সাহায্য করবে।

বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে ডিএনএ কোনো সরল রেখায় থাকে না, বরং এটি একটি জটিল ত্রিমাত্রিক কাঠামোয় ভাঁজ হয়ে থাকে। এই গঠনটি নির্ধারণ করে কোষের কোন জিনগুলো কাজ করবে। আলঝেইমার আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল কর্টেক্সের নমুনা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, সেখানে ডিএনএ বিন্যাসের স্বাভাবিক কাঠামো পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

গবেষণায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ‘হিকফর্মার’ (Hicformer)-এর সাহায্যে বিজ্ঞানীরা ডিএনএ-র ভাঁজ এবং জিনের কার্যকারিতার মধ্যকার জটিল সম্পর্ক চিহ্নিত করেছেন। তারা লক্ষ্য করেছেন, আলঝেইমার আক্রান্ত কোষে ডিএনএ-র অংশগুলো আগের চেয়ে অস্পষ্ট এবং বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কোষের ভেতরে জিন নিয়ন্ত্রণের জন্য যে সক্রিয় অঞ্চলগুলো থাকে, সেগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পায়। এর ফলে নিউরন ও সিন্যাপসের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়।

পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হ্যান্সরুডি ম্যাথিস বলেন, আলঝেইমারের পরিচিত লক্ষণ অ্যামাইলয়েড-বিটা প্লাক এবং টাউ ট্যাঙ্গলের পাশাপাশি এই ক্রোমাটিন বা ডিএনএ কাঠামোর পরিবর্তন রোগটির একটি গুরুত্বপূর্ণ আণবিক বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার কেবল রোগের কারণ নির্ণয়েই নয়, বরং ভবিষ্যতে নতুন ধরনের কার্যকর ওষুধ তৈরির পথ প্রশস্ত করতে সহায়তা করবে।

Leave a Comment