যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকরা উচ্চ রক্তচাপের একটি লুকানো কারণ শনাক্ত করেছেন যা প্রচলিত রক্ত পরীক্ষায় প্রায়ই ধরা পড়ে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. থমাস আপটন এবং তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রাইমারি অ্যালডোস্টেরোনিজম নামক হরমোনজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ঘটে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের এই সমস্যা থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত রোগীদের শরীরে দিনের তুলনায় রাতে হরমোনের অস্বাভাবিক নিঃসরণ বা বিস্ফোরণ ঘটে। যেহেতু রাতের বেলা সাধারণত রুটিন মাফিক কোনো রক্ত পরীক্ষা করা হয় না, তাই এই বিষয়টি চিকিৎসকদের অগোচরে থেকে যায়।
গবেষক দলটি ‘ইউ-রিদম’ (U-RHYTHM) নামক একটি বিশেষ পরিধানযোগ্য ডিভাইস ব্যবহার করে ৬০ জন রোগীর ওপর এই পরীক্ষা চালিয়েছেন। এটি মোবাইল ফোনের আকারের একটি হালকা ডিভাইস যা কোমরে পরিধান করা যায়। এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ধরে প্রতি ২০ মিনিট পরপর হরমোনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। ডিভাইসটি ব্যবহারের ফলে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি না থেকেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মধ্যে এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছেন।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রচলিত রক্ত পরীক্ষায় অ্যালডোস্টেরোনের মাত্রা সবসময় উচ্চ পাওয়া যায় না। অনেক সময় হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমও নেমে যেতে পারে, ফলে চিকিৎসকরা প্রকৃত রোগ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। কিন্তু নতুন এই পদ্ধতিতে রাতের বেলা হরমোনের যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে, তা রোগ নির্ণয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
প্রফেসর স্ট্যাফোর্ড লাইটম্যানের মতে, এই গবেষণা উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে কেবল একটি রক্ত নমুনার ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘ সময় ধরে হরমোনের ছন্দ বা পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হবে। এটি রোগীদের আরও কার্যকর চিকিৎসাসেবা প্রদানে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।