ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থিত টাটা সন্সের সদর দপ্তর বম্বে হাউসে নজিরবিহীন অস্থিরতা ও ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়েছে। টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদ তাদের চেয়ারম্যান হিসেবে এন চন্দ্রশেখরনকে পুনরায় নিয়োগ এবং হোল্ডিং কোম্পানিটিকে স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার (পাবলিক লিস্টিং) সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কোম্পানিটির ৬৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক টাটা ট্রাস্টস এই সিদ্ধান্তকে তাদের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী ও অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে। এই বিরোধের ফলে ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ এই শিল্পগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে চন্দ্রশেখরনের পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্তটি বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বাধার মুখে পড়তে পারে, কারণ টাটা ট্রাস্টস এর বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। মুম্বাইয়ের করপোরেট আইনজীবী নিতিন পোতদারের মতে, নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটির এই নিয়োগ প্রদানের ক্ষমতা নেই এবং ৬৫ বছর বয়সের পর নির্বাহী পদে থাকার নিয়মটিও এখানে লঙ্ঘিত হয়েছে। চন্দ্রশেখরনের বয়স ২০২৮ সালে ৬৫ পূর্ণ হবে।
এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) টাটা সন্সকে আপার লেয়ার নন-ব্যাঙ্কিং ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করায় তাদের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। যদিও টাটা ট্রাস্টস বরাবরই কোম্পানিকে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন রাখার পক্ষে। তারা মনে করে, পাবলিক লিস্টিং হলে দাতব্য কাজে অর্থের জোগান কমে যাবে এবং হাসপাতালের মতো সেবা খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে টাটা সন্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক লিস্টিং জরুরি। বিশেষ করে এয়ার ইন্ডিয়া ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই স্বচ্ছতা প্রয়োজন। তবে এই দ্বন্দ্বের কারণে ভারতের শেয়ার বাজারে টাটা গ্রুপের শেয়ার দরে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই পরিস্থিতি ভারতের শিল্প খাতের জন্য নতুন ও জটিল এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে নিয়মিত আইনি মোড় ঘোরার সম্ভাবনা রয়েছে।