জার্মানির বার্লিনে স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলকে নিজের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন বা সিডিইউ-এর জন্য ‘বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ। নির্বাচনে নিজের দলের ভরাডুবি সত্ত্বেও তিনি পদত্যাগ না করে চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। দলের অভ্যন্তরে জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং চাপের মুখে থাকা মার্জের এই সিদ্ধান্ত জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনী ফলাফল ও পরিস্থিতি
ম্যাকলেনবার্গ-ভোরপোমের্ন অঙ্গরাজ্যে সিডিইউ তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে। দলটি পার্লামেন্টে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের সীমাও পার করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সময়ে বার্লিনে সিডিইউর অবস্থান ছিল বেশ নড়বড়ে, যেখানে ডি লিঙ্কে (দ্য লেফট) এগিয়ে রয়েছে। এদিকে চরম ডানপন্থী দল এএফডি নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে, যদিও অন্যান্য দল তাদের সাথে সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
মার্জের অবস্থান
দলের এই পরাজয়ের পর চ্যান্সেলর মার্জ জানিয়েছেন, তিনি তার জোট সরকারের অর্থনৈতিক, কর এবং কল্যাণমূলক সংস্কারের পরিকল্পনাগুলো এগিয়ে নেবেন। বার্লিনে দলের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি এবং এই দায়িত্ব তিনি কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এই সংস্কারগুলো সমাজের গভীরে প্রবেশ করা কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে। দলের ভেতরে তাকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও আটটি জার্মান অঙ্গরাজ্যের নেতারা তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা
ফ্রেডরিখ মার্জ মাত্র ১৬ মাস আগে চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে জনপ্রিয়তা কম থাকা এবং অভিবাসন ইস্যুতে ডানপন্থী অবস্থান গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই নীতি এএফডি দলের সমর্থন কমাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বামপন্থী ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে। মার্জের সমর্থকরা দাবি করছেন, তাকে চার বছর পূর্ণ করার সুযোগ দেওয়া উচিত কারণ তিনি অনেক পুরনো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।