যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভিডিও আপস্কেলিং বা ফোর-কে (4K) রেজোলিউশনে রূপান্তরের প্রযুক্তিগত দিকগুলো তুলে ধরেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জ্যাক হুইটকম্ব। সাধারণ মানের ভিডিওকে আধুনিক ফোর-কে ডিসপ্লেতে শার্প বা স্বচ্ছ দেখানোর জন্য মূলত এই আপস্কেলিং করা হয়, যার নেপথ্যে কাজ করে জটিল সব সফটওয়্যার ও গাণিতিক হিসাব।
পিক্সেল ও রেজোলিউশনের ভূমিকা
সাধারণত ফোর-কে বলতে ৩,৮৪০ বাই ২,১৬০ রেজোলিউশনকে বোঝায়। একটি ১০৮০পি (1080p) ভিডিওকে ফোর-কে করতে গেলে প্রতিটি মূল পিক্সেলের বিপরীতে তিনটি অতিরিক্ত নতুন পিক্সেল যুক্ত করতে হয়। কোনো মানের অবনতি না ঘটিয়ে এই বিশাল পরিমাণ পিক্সেল যুক্ত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রথাগত সফটওয়্যারগুলো ইন্টারপোলেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে নতুন পিক্সেলগুলো কী হওয়া উচিত, তার একটি গাণিতিক অনুমান তৈরি করে। তবে রেকর্ডিংয়ের সময় যে তথ্য ধারণ করা হয়নি, তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
প্রফেশনাল বনাম সাধারণ রূপান্তর
পেশাদাররা সাধারণত উচ্চমানের সোর্স ফাইল বা মূল ফিল্ম নেগেটিভ ব্যবহার করে ভিডিওর গুণগত মান উন্নয়ন করেন। যেমন, সিবিএস নেটওয়ার্ক তাদের স্টার ট্রেক সিরিজটি ৩৫ মিমি ফিল্ম থেকে ফোর-কে মানে রূপান্তরের জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছিল। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সোর্স ফাইল হিসেবে মূলত ইন্টারপোলেশন বা এআই-ভিত্তিক টুল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
এআই ও ইন্টারপোলেশন প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা
সাধারণ আপস্কেলারগুলো পিক্সেলের উজ্জ্বলতা ও রঙের ভিত্তিতে নতুন পিক্সেলের হিসাব করে, যা অনেক সময় ভিডিওতে অস্পষ্টতা বা কৃত্রিমতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, এআই-ভিত্তিক আপস্কেলারগুলো বিভিন্ন চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনুমান করে যে শার্প ইমেজ কেমন হতে পারে। তবে এটিও শতভাগ নির্ভুল ফলাফল দিতে পারে না। ভিডিওর মান ভালো হতে হলে সোর্স ফাইলের গুণমান ভালো হওয়া অপরিহার্য। নিম্নমানের বা কম বিটরেটের ভিডিও থেকে উন্নত ফোর-কে ভিডিও তৈরি করা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।