ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরে বিতর্কিত ই১ বসতি নির্মাণের জন্য ১,২০০টিরও বেশি ইউনিট তৈরির দরপত্র আহ্বান করেছে ইসরায়েলি সরকার। ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে চিরতরে মুছে ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা পশ্চিম তীরকে দ্বিধাবিভক্ত করে ফেলবে।
রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং উগ্র ডানপন্থী নেতারা আন্তর্জাতিক সমালোচকদের মন্তব্যের বিপরীতে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনাকে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রচার করছেন। নির্বাচনে জয়ী হতে এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পাকাপোক্ত করতে তারা এই বৈশ্বিক নিন্দাকে ব্যবহার করছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষক নিমরোদ ফ্লাশেনবার্গ।
মন্ত্রীদের অবস্থান ও নির্বাচন
ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিখ ই১ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা। নির্বাচনের আগে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবং ডানপন্থী ভোটারদের তুষ্ট করতে তিনি এই প্রকল্পকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ই১ প্রকল্প নিয়ে সরকারের বাড়াবাড়ি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ই১ বসতি নির্মাণের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়েছে। মিশর, জর্ডান, সৌদি আরব, তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি আরব রাষ্ট্র অবিলম্বে এই পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ১৫টি দেশ যৌথ চিঠিতে জানিয়েছে, এই বসতি নির্মাণ দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথ রুদ্ধ করে দেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রকল্পের সরাসরি নিন্দা না করলেও পশ্চিম তীর দখলের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে।
বাস্তব প্রভাব
যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন ই১ প্রকল্প দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের জন্য বড় বাধা, তবুও অনেকে একে সাময়িক উস্কানি হিসেবে দেখছেন। তবে এই প্রকল্পের ফলে ওই এলাকায় বসবাসরত অন্তত ১৮টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যেই রাস্তাঘাট নির্মাণ ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের কারণে অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।