সিরিয়ার দামেস্কে দেশটির সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমাদ বদরুদ্দিন হাসসুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার চতুর্থ ফৌজদারি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ, বিশেষ করে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া এবং ধর্মীয় পদের অপব্যবহারের দায়ে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়।
বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান তার রায়ে উল্লেখ করেন, আহমাদ হাসসুন এবং তার নেতৃত্বাধীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি বাশার আল-আসাদের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পক্ষে ধর্মীয় ঢাল হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে বেসামরিক এলাকায় ব্যারেল বোম্ব হামলার মতো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী কর্মকাণ্ডকে তার শিক্ষা ও বক্তব্য সমর্থন জুগিয়েছে।
আদালতের নথিতে বলা হয়, হাসসুন তার লেকচারের মাধ্যমে সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করতেন। এছাড়া গণমাধ্যমে তিনি আলেপ্পোর বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে আহ্বান জানান এবং ইদলিবের জনগণকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। হত্যার উসকানি দেওয়ার দায়ে তাকে ২০ বছর এবং সহিংসতা দীর্ঘায়িত করার দায়ে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় অনুযায়ী, আহমাদ হাসসুনকে কোনো ধরনের সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমা দেওয়া হবে না এবং তার সব সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা হবে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় শুরু হওয়া বিচারিক প্রক্রিয়ায় হাসসুন একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। এর আগে বাশার আল-আসাদসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। তবে হাসসুন প্রথম সুন্নি ধর্মীয় নেতা যাকে এই প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করা হলো।