যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বাজারে নতুন রাউটার কেনার ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাই ৭ প্রযুক্তি অধিকতর ভালো অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ওয়াই-ফাই অ্যালায়েন্স এই নতুন স্ট্যান্ডার্ড উন্মুক্ত করার পর থেকে বাজারে এর সমর্থনযুক্ত ডিভাইসের সংখ্যা বাড়ছে। আগের প্রযুক্তির তুলনায় নতুন এই সংস্করণে উন্নত গতি ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুবিধা যুক্ত হয়েছে।
ওয়াই-ফাই ৭ প্রযুক্তি পেছনের দিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ (Backwards compatible), যার ফলে পুরনো ডিভাইসগুলোও নতুন রাউটারে অনায়াসেই যুক্ত হতে পারে। তবে পুরনো ডিভাইসে এই নতুন প্রযুক্তির পূর্ণ সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। রাউটার কেনার ক্ষেত্রে মাল্টি-লিংক অপারেশন (MLO) এবং ৪কে-কিউএএম (4K-QAM)-এর মতো প্রযুক্তিগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ওয়াই-ফাই ৭-এর উপযোগিতা
ট্রাই-ব্যান্ড ওয়াই-ফাই ৭ রাউটারগুলো সাধারণ রাউটারের চেয়ে বেশি কার্যকর, বিশেষ করে যেসব বাড়িতে প্রচুর ডিভাইস ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তাত্ত্বিকভাবে এই রাউটারগুলো ওয়াই-ফাই ৬ই-এর তুলনায় ৫ গুণ বেশি অর্থাৎ ৪৬ জিবিপিএস পর্যন্ত গতি দিতে সক্ষম। তবে বাস্তব জীবনে ইন্টারনেটের গতি নির্ভর করে ইন্টারনেট প্ল্যান এবং সংযোগকৃত ডিভাইসের চাহিদার ওপর। সিএনইটি-এর পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওয়াই-ফাই ৭ রাউটারগুলো দীর্ঘ দূরত্বেও শক্তিশালী সিগন্যাল বজায় রাখতে পারে। এমএলও প্রযুক্তির মাধ্যমে রাউটারগুলো ২.৪ গিগাহার্জ, ৫ গিগাহার্জ এবং ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডে একই সময়ে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে।
ওয়াই-ফাই ৬-এর বর্তমান অবস্থান
বর্তমানে ওয়াই-ফাই ৭ নতুন প্রযুক্তি হলেও ওয়াই-ফাই ৬ বা ৬ই এখনো বেশ কার্যকর। সাধারণ ঘরোয়া পরিবেশে এই রাউটারগুলো একাধিক ডিভাইস সামলানোর জন্য বেশ নির্ভরযোগ্য। ওয়াই-ফাই ৭-এর ব্যাপক গ্রহণ এখনো বাকি থাকায় আইফোন ১৭ বা প্লেস্টেশন ৫ প্রো-এর মতো ডিভাইসেও এর সুবিধার পার্থক্য খুব একটা স্পষ্ট নয়। ওয়াই-ফাই ৮ প্রযুক্তি ২০২৮ সালে আসার সম্ভাবনা থাকায় বর্তমানে রাউটার কেনার সময় ডিভাইসের সামঞ্জস্যতা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।