যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের তথ্যমতে, ল্যাপটপের ইউএসবি-সি চার্জার দিয়ে স্মার্টফোন চার্জ করা প্রযুক্তিগতভাবে নিরাপদ কি না তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। গ্যাব্রিয়েলা ভাটুর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আধুনিক স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপের চার্জিং ব্যবস্থা ইউএসবি পাওয়ার ডেলিভারি (ইউএসবি-পিডি) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে তৈরি, যা ডিভাইসগুলোর মধ্যে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করে।
চার্জিং প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে
আধুনিক ইউএসবি-সি চার্জার ল্যাপটপে যুক্ত করলেই সরাসরি পূর্ণ শক্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে না। চার্জার এবং ডিভাইসের মধ্যে আগে একটি ডিজিটাল যোগাযোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় স্মার্টফোনটি তার সক্ষমতা অনুযায়ী যতটুকু বিদ্যুৎ প্রয়োজন, কেবল ততটুকুই গ্রহণ করে। তাই উচ্চ ক্ষমতার ল্যাপটপ চার্জার ব্যবহার করলেও ফোনের সার্কিট নষ্ট হওয়ার ভয় নেই।
কখন নিরাপদ
গত এক দশকে বাজারে আসা অধিকাংশ আইফোন, পিক্সেল, গ্যালাক্সি ডিভাইস এবং ল্যাপটপ ইউএসবি-পিডি প্রযুক্তি সমর্থন করে। ফলে ল্যাপটপের চার্জার স্মার্টফোনে ব্যবহার করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়। যদি কোনো ডিভাইস এই প্রযুক্তি সমর্থন না-ও করে, তবুও চার্জারটি একটি নিরাপদ ভোল্টেজে কাজ করবে, যার ফলে চার্জিং ধীরগতির হলেও ডিভাইসটি সুরক্ষিত থাকবে।
দ্রুত চার্জ কি সম্ভব
আপনার ফোন যদি ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে, তবে ল্যাপটপের চার্জার দিয়ে সাধারণ চার্জারের চেয়ে দ্রুত চার্জ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে ফোনের সর্বোচ্চ ইনপুট ক্ষমতা যদি ১৮ বা ২০ ওয়াট হয়, তবে ১০০ ওয়াটের চার্জার ব্যবহার করলেও গতি বাড়বে না, কারণ ফোন কেবল তার নির্ধারিত ক্ষমতাই গ্রহণ করবে। স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর নিজস্ব চার্জিং প্রোটোকল থাকলে সেক্ষেত্রে মূল কোম্পানির চার্জার ব্যবহার করাই ভালো।
সতর্কতা
যদিও ল্যাপটপ চার্জার ব্যবহারে ঝুঁকি কম, তবে সস্তা বা নকল চার্জার ব্যবহারে বিপদ হতে পারে। এ ধরনের চার্জারে বৈদ্যুতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ভোল্টেজ স্পাইক হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা ফোন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া নিম্নমানের ক্যাবল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো চার্জার ব্যবহারের আগে তাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা মানচিহ্ন যেমন সিই (CE) বা ইউএল (UL) আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।