যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ইউএসবি-এ ও ইউএসবি-সি এর মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরেছে। দৈনন্দিন জীবনে স্মার্টফোন চার্জ দেওয়া থেকে শুরু করে কম্পিউটারের সাথে বিভিন্ন সরঞ্জাম সংযোগের জন্য ইউএসবি (USB) অপরিহার্য। যদিও দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, তবুও অনেক ব্যবহারকারীই এই দুই ধরনের পোর্টের সক্ষমতা ও কাজের ধরণ সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নন।
ইউএসবি-এ বা ইউএসবি টাইপ-এ নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রচলিত একটি মান। আয়তাকার এই পোর্টের পিনগুলো এক দিকে থাকায় এটি সংযোগ দেওয়ার সময় সুনির্দিষ্ট দিকে প্রবেশ করাতে হয়। ইউএসবি-এ তৈরির মূল লক্ষ্য ছিল কম্পিউটার পেরিফেরালগুলোকে সহজতর করা। পুরনো সংস্করণে হোস্ট এবং ডিভাইস আলাদাভাবে কাজ করত, তাই ইউএসবি-এ থেকে ইউএসবি-এ কেবল ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। বর্তমানে ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, রাউটার এবং গেমিং কনসোলে এটি বহুল ব্যবহৃত।
২০১৪ সালে বাজারে আসে ইউএসবি-সি বা ইউএসবি টাইপ-সি। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি উভয় দিক থেকে ব্যবহারযোগ্য এবং ডিম্বাকৃতির। ইউএসবি-সি আসার পর আগের অনেক সংযোগ মাধ্যম ‘লিগ্যাসি’ বা পুরনো হিসেবে গণ্য হতে থাকে। এটি কেবল ডেটা ট্রান্সফারই নয়, বরং ল্যাপটপ চার্জ করা, ভিডিও ও অডিও আউটপুট প্রদান এবং বিভিন্ন পেরিফেরাল সংযোগের মতো বহুমুখী কাজে সক্ষম। আধুনিক স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপে এখন মূলত এই পোর্টই দেখা যায়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউএসবি-এ এবং ইউএসবি-সি এর মূল পার্থক্যের পাশাপাশি এদের ডেটা স্থানান্তর বা চার্জিং গতি মূলত নির্ভর করে নির্দিষ্ট কেবল এবং পোর্টের মানদণ্ডের ওপর। ইউএসবি-এ সাধারণত সীমাবদ্ধ চার্জিং গতির হয়ে থাকে, যেখানে ইউএসবি-সি দ্রুতগতির চার্জিং সুবিধা প্রদান করে। ইউএসবি ৪-এর মতো উন্নত মানগুলো কেবল ইউএসবি-সি পোর্টের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল বা পোর্টের শারীরিক আকৃতিই সব নয়; পূর্ণ সুবিধা পেতে ডিভাইসের স্পেসিফিকেশন যাচাই করা প্রয়োজন।