সুদানে মানবিক যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হওয়ার কারণ ও এর দায়ভার কাদের

September 21, 2026

সুদানের ওমদুরমানে দেশটির সামরিক বাহিনী ও র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মানবিক যুদ্ধবিরতির সব প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ছে, যা দেশটির মানবিক বিপর্যয়কে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৯ মাসব্যাপী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও ৯০ দিনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও যুদ্ধরত পক্ষগুলো শান্তি আলোচনার চেয়ে যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জাতিসংঘের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সুদানের মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা বর্তমানে পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে।

পটভূমি
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সামরিক বাহিনী (এসএএফ) এবং আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতা দখল নিয়ে এই গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের ফলে দেশটির ১৮টি রাজ্যের ১৩টিতেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। জেদ্দা ঘোষণা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে, কারণ যুদ্ধরত পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার পরিবর্তে নিজেদের সামরিক অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাতের মূল কারণ হলো এসএএফ প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ। সুদান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আল-বুরহান এবং তার সহযোগীরা শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করছেন যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগের যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে আনতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ক্যামেরন হাডসন।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
সুদানের বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে। এসএএফ দক্ষিণ কর্ডোফানে অগ্রগতির দাবি করছে এবং আরএসএফ এল ওবেইদের পশ্চিমে বড় জয়ের দাবি তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ কোনো সমাধান অদূর ভবিষ্যতে দৃশ্যমান নয়। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সুদানের মানবিক সহায়তার জন্য ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছে, সামরিক উপায়ে এই যুদ্ধের কোনো সমাধান সম্ভব নয়। তবে মাঠপর্যায়ে লড়াই চলমান থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সব উদ্যোগই বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

Leave a Comment