কেনিয়ার আম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানের উপকণ্ঠে রহস্যজনকভাবে অন্তত ১৮টি হাতি মৃত্যুর ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজন কেনিয়ার নাগরিক এবং একজন তানজানিয়ার নাগরিক। গত দুই মাস ধরে চলা হাতি মৃত্যুর ঘটনাগুলোর তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের আটক করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাতিগুলোর মৃত্যুর কারণ হিসেবে সায়ানাইড বিষক্রিয়াকে সন্দেহ করা হচ্ছে। হাতির পেট থেকে সংগ্রহ করা ফসলের নমুনায় প্রাথমিক ল্যাব পরীক্ষায় সায়ানাইডের উপস্থিতি মিলেছে। মৃত হাতিগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং তাদের বাচ্চা, যাদের সবার মধ্যেই প্যারালাইসিসের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল।
কেনিয়ার আম্বোসেলি এবং সাভো জাতীয় উদ্যানের মধ্যবর্তী কিমানা এলাকায় প্রচুর টমেটো চাষ হয়। এসব খামারে অবৈধ কীটনাশক স্প্রে করা টমেটো খেয়ে হাতিগুলো মারা গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিমানা এলাকাটি আম্বোসেলি ইকোসিস্টেমের অংশ, যেখানে প্রায় দুই হাজার হাতি খাদ্য ও পানির সন্ধানে চলাচল করে।
কেনিয়ায় নিষিদ্ধ থাকা অনেক কীটনাশক তানজানিয়ার সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় খামারিরা এগুলো জমিতে ব্যবহার করেন, যার ফলে প্রায়ই লোকালয়ের কাছাকাছি থাকা হাতিগুলো বিষক্রিয়ার শিকার হয়। যদিও নিষিদ্ধ কৃষি রাসায়নিকের বিরুদ্ধে আইন রয়েছে, কিন্তু তার প্রয়োগ ও নজরদারির অভাব রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতরা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।