নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে একটি নতুন বিল পার্লামেন্টে উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন জানিয়েছেন, শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং আসক্তিমূলক প্রযুক্তির হাত থেকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিলটি পাস হলে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ে বাধ্য থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার কারণ
প্রধানমন্ত্রী লুক্সনের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুমের অভ্যাস, পারিবারিক জীবন এবং শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, বাস্তব পৃথিবীতে শিশুদের সুরক্ষার জন্য যেমন নিয়ম রয়েছে, ভার্চুয়াল জগতেও তা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্ব ও শাস্তি
প্রস্তাবিত অনলাইন সেফটি বিল অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছরের বেশি কি না, তা নিশ্চিত করতে যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে ডিজিটাল পরিচয়পত্র যাচাই বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। নিয়ম না মানলে কোম্পানিগুলোকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।
রাজনৈতিক বিতর্ক
বিলটি পাস হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ, সরকারের জোট শরিক দল অ্যাক্ট এবং নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট (এনজেডএফ) এই বিলের বিরোধিতা করেছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড সেমুর মনে করেন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স অস্ট্রেলিয়ায় এই ধরনের পদক্ষেপকে ব্যর্থ হিসেবে আখ্যা দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এর আগে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের পথে হেঁটেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও গ্রিসও আগামী বছর থেকে এ বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও ফ্রান্সে এ ধরনের আইন বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী হিসেবে আদালত কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিলটি পার্লামেন্টে ভোটাভুটির অপেক্ষায় রয়েছে।