সুইজারল্যান্ডের জুরিখে উয়েফা প্রধান আলেক্সান্দার সেফেরিন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি ফিফার সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। ফিফার বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে সংস্থাটির বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর অনাস্থা প্রকাশ এবং তার পদত্যাগের দাবি ওঠার প্রেক্ষিতে সেফেরিন এই ঘোষণা দিলেন। ফুটবল বিশ্বের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেফেরিন জানান, উয়েফায় নিজের কাজ নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং এখানে তিনি বেশ আনন্দ পাচ্ছেন। এছাড়া ফিফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত তার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে বলে তিনি মনে করেন। ৫৭ বছর বয়সী সেফেরিন বিশ্বাস করেন, আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোকে অন্তত একজন শক্তিশালী প্রার্থীর মুখোমুখি হতে হবে।
মূলত ফিফার প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকেটিং স্বত্ব বিক্রির একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করার পর থেকেই ইনফান্তিনো চাপের মুখে রয়েছেন। সেফেরিনের মতে, এই পরিকল্পনা ছিল ফুটবলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, যাকে তিনি ইউরোপীয় সুপার লিগের চেয়েও খারাপ বলে অভিহিত করেছেন। ইনফান্তিনোর এই পদক্ষেপের ফলে উয়েফা এবং বিশ্বের বেশ কিছু ফুটবল ফেডারেশন তার ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছে।
যদিও ইনফান্তিনো দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার ফুটবল সংস্থাগুলোর সমর্থন ধরে রেখেছেন, তবে ফিফার এই বিতর্কিত উদ্যোগের কারণে তার নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে খেলোয়াড়ের শাস্তি মওকুফ হওয়ার ঘটনাকে সেফেরিন অত্যন্ত হতাশাজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
ইনফান্তিনো এখন বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে ফুটবল কমিউনিটি, খেলোয়াড়, কোচ এবং ভক্তদের সমর্থন হারানোয় আগামী দিনে ফিফার শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।