যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর সিরিয়াকে সন্ত্রাসে মদতদাতা দেশের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সিরিয়া আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে সরিয়ে নিয়েছে এবং সেই ইতিবাচক পদক্ষেপের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি দেশটিতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ এবং বিশ্ব অর্থনীতির মূলধারায় ফেরার ক্ষেত্রে প্রধান বাধাগুলো দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শারা অতীতে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নামক ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিতেন, যা একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকায় ছিল। তবে ২০১৬ সালে আল-কায়েদার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এইচটিএসকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেয়। ২০২৪ সালের শেষদিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনে এইচটিএস প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত ভূ-রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে। ওয়াশিংটন চায় সিরিয়া যেন রাশিয়া বা চীনের বলয় থেকে বেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ে আসে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, এই পদক্ষেপ সিরিয়ায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানির মতে, এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তিনি জানিয়েছেন, তার দেশ আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে নতুন পরিবেশ তৈরির কাজ চালিয়ে যাবে।
১৯৭৯ সাল থেকে সিরিয়া এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই তালিকাভুক্ত দেশগুলোর ওপর বিভিন্ন ধরনের আর্থিক নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক সহায়তা বন্ধ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা থাকে। সিরিয়া বাদ পড়ায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় কিউবা, উত্তর কোরিয়া ও ইরান বাকি রইল। তবে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় এবং প্রতিবেশী দেশ ইসরায়েল ও তুরস্কের সাথে দেশটির উত্তেজনা চলমান রয়েছে।