ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে অবস্থিত ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) তুরস্কের কারাগার থেকে সমাজকর্মী ও ব্যবসায়ী ওসমান কাভালাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে বন্দি কাভালার আটকাদেশকে আদালত বেআইনি এবং মানবাধিকার পরিপন্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই রায় তুরস্কের বিচারিক স্বাধীনতার ওপর এক বড় চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২২ সালে কাভালাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং ২০১৬ সালের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। তবে মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং কাভালা শুরু থেকেই বলে আসছেন যে, এই বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কাভালার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থাগুলো মূলত তাকে স্তব্ধ করার জন্য এবং গাজি পার্ক বিক্ষোভের সাথে জড়িত থাকার কারণে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে আদালত অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ বলে অভিহিত করেছে।
আদালত আরও জানিয়েছে, কাভালার মামলাটি তুরস্কের বিচারব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত সংকটকে সামনে এনেছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, মানবাধিকার কর্মী এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আদালত তুরস্কের বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তবে তুর্কি সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের আদালত স্বাধীন।
এর আগে ২০১৯ সালেও ইসিএইচআর কাভালার মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু তুরস্ক তা কার্যকর করেনি। পরবর্তী সময়ে তাকে নতুন অভিযোগে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই নতুন রায়কে স্বাগত জানিয়ে তুরস্ক সরকারকে দ্রুত কাভালাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ওসমান কাভালা প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন এবং যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন। গ্রেফতারের আগে তিনি একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালনা করতেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, তুরস্ক সরকার আদালতের এই তৃতীয় দফার বাধ্যতামূলক নির্দেশ পালন করে কি না।