ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন আশা: ন্যাচারাল কিলার সেলের কার্যকারিতা বৃদ্ধি

August 26, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের গবেষকরা ন্যাচারাল কিলার (NK) কোষগুলোকে বিশেষভাবে শক্তিশালী বা সুপারচার্জ করার একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা কঠিন টিউমার দমনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের গবেষক জন সানউ এই গবেষণার মূল দিকগুলো তুলে ধরেছেন। এই প্রযুক্তিটি ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি সহজলভ্য এবং কার্যকর সমাধান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্যান্সার চিকিৎসায় ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগানো বর্তমান সময়ে অত্যন্ত আলোচিত একটি বিষয়। তবে রক্তের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা পদ্ধতি সফল হলেও কঠিন টিউমারের ক্ষেত্রে তা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। টিউমারগুলো সাধারণত রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয় এবং এমন কিছু সংকেত নিঃসরণ করে যা শরীরের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলে।

সানউ এবং তার সহকর্মীরা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ন্যাচারাল কিলার কোষগুলোকে এক ধরনের টিস্যু-রেসিডেন্ট কোষে রূপান্তরিত করেছেন। এই কোষগুলো সাধারণ কোষের তুলনায় খুব সহজেই টিউমারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে এবং ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম। গবেষণায় দেখা গেছে, ইঁদুরের শরীরে এই কোষগুলো মেলানোমা এবং মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের বৃদ্ধি কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন এই কোষগুলোকে ‘সেটুক্সিমাব’ নামক অ্যান্টিবডি ওষুধের সাথে প্রয়োগ করা হয়েছে, তখন এর কার্যকারিতা আরও অনেক গুণ বেড়েছে।

এই চিকিৎসার একটি বড় সুবিধা হলো এটি একজনের শরীর থেকে সংগ্রহ করে অন্য রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা সম্ভব। এর জন্য রোগীর নিজস্ব কোষ থেকে আলাদা করে চিকিৎসা তৈরির প্রয়োজন নেই। এই কোষগুলো বড় আকারে উৎপাদন করে জমিয়ে রাখা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে বহু রোগীর জন্য দ্রুত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করবে। বর্তমানে গবেষকরা মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের উন্নত পর্যায়ের রোগীদের ওপর এই পদ্ধতির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Leave a Comment