আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রশ্নে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রস্টাডোত্তিরের নেতৃত্বাধীন সরকার এই ভোটাভুটি আয়োজন করেছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ইইউতে যোগদানের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত এখন প্রায় সমান সমান।
প্রধানত মৎস্য সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব নিয়েই এই বিতর্ক আবর্তিত হচ্ছে। আইসল্যান্ডের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে সামুদ্রিক মৎস্য শিল্প থেকে। ইইউতে যোগ দিলে তাদের মৎস্য সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় অনেকেই এর বিরোধিতা করছেন। মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা মনে করছেন, ব্রাসেলসের কঠোর নীতিমালা দেশটির কর্মসংস্থান ও ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর হবে।
অন্যদিকে, ইইউ সমর্থকদের মতে, এর ফলে আইসল্যান্ডের ভঙ্গুর মুদ্রা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আসবে। ইউরো মুদ্রা গ্রহণ করলে ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা বাড়বে বলেও তারা মনে করছেন। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। আইসল্যান্ডের নিজস্ব কোনো সামরিক বাহিনী না থাকায় ইইউর সদস্যপদকে নিরাপত্তার বাড়তি একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছেন অনেকে।
গণভোটের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, জনমত জরিপ অনুযায়ী দুই পক্ষই সমান অবস্থানে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটাভুটির ফলাফল ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে ব্রাসেলসের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু হবে। তবে চূড়ান্ত সদস্যপদ পাওয়ার আগে দেশটিতে আরও একটি গণভোটের প্রয়োজন হবে। ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতিও এখানে জরুরি।
দেশটিতে বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের কারণে আবাসনসহ জীবনযাত্রার ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই আজ আইসল্যান্ডের প্রায় ৪ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এর আগে ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের পর আইসল্যান্ড ইইউতে যোগদানের আলোচনা শুরু করলেও ২০১৩ সালে তা স্থগিত করেছিল।