বসনিয়ার কারাগারে ৮৪ বছর বয়সে মারা গেছেন সার্ব কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচ, যিনি নব্বইয়ের দশকে বলকান যুদ্ধের সময় ‘বসনিয়ার কসাই’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। বিবিসি’র বিশেষ সংবাদদাতা অ্যালান লিটল, যিনি প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ার ভাঙন এবং বসনিয়া যুদ্ধের পুরো সময়টি কাছ থেকে দেখেছেন, তিনি যুদ্ধের শুরুর দিকে ম্লাদিচের সাথে তার সাক্ষাতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
সারায়েভোর দক্ষিণ প্রান্তে লুকাভিকা ব্যারাকে ম্লাদিচের সাথে প্রথমবার দেখা হয়েছিল অ্যালান লিটলের। ম্লাদিচ তাকে যুদ্ধের ময়দান থেকে ফিরে আসার কথা জানিয়েছিলেন। সাংবাদিকের ভাষায়, ম্লাদিচকে তখন অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ধর্মান্ধ মনে হয়েছিল। ম্লাদিচ নিজেকে যুগোস্লাভিয়ার ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের মহান রক্ষক হিসেবে দাবি করলেও, পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে সবচেয়ে জঘন্যতম যুদ্ধাপরাধগুলো সংঘটিত হয়।
ম্লাদিচের বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ফলে জাতিগত নির্মূল অভিযান, গণধর্ষণ, জোরপূর্বক বিতাড়ন এবং সেব্রেনিৎসায় গণহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অ্যালান লিটল জানান, যুদ্ধের সেই শুরুর দিকে হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল। যুদ্ধের ভয়াবহতা বর্ণনায় তিনি এক বৃদ্ধ সংগীতশিল্পীর কথা উল্লেখ করেন, যাকে জাতিগত পরিচয়ে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
অ্যালান লিটল আরও জানান, ম্লাদিচ সরাসরি ট্রিগার না টানলেও তার নির্দেশে তৈরি হওয়া অপরাধমূলক পরিবেশ হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। সেই যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও ব্যক্তিগত শোকের কথা উল্লেখ করে লিটল বলেন, ম্লাদিচের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছিল, যা আজীবন দাগ রেখে গেছে।