নেপালের ত্রিশূলী নদীর উপত্যকায় গ্লেসিয়ার বা হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। এই বিপর্যয়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে নেপালি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই বন্যা কেন গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে স্যাটেলাইট ইমেজগুলো বিশ্লেষণ করছে বিবিসি ভেরিফাই, যা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা ভ্যান্টরের স্যাটেলাইট চিত্রগুলোতে দেখা গেছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্ত ক্রসিংয়ের একটি বড় অংশ বন্যার পানিতে পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। এছাড়া তিমুরে গ্রামটি মানচিত্র থেকে প্রায় মুছে গেছে এবং শ্যাপ্রু বেসি এলাকা পলি, পাথর ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গেছে।
ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত ত্রিশূলী শহরে একটি পুরো এলাকা বন্যার তোড়ে ভেসে গেছে। ড্রোন ফুটেজ ও স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গ্লেসিয়ারের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ার কারণেই এই ভয়াবহ বন্যার উৎপত্তি। এর ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাত্মক প্রবাহ নদীর তীরবর্তী গাছপালা ও স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি অস্থায়ী হ্রদ বা ব্যারিয়ার লেক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে চীন সতর্কবার্তা দিয়েছে। ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ ড. আর্ঘ্য ব্যানার্জি জানিয়েছেন, হ্রদটি থেকে পানি বের হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, তবে এটি কতটা স্থিতিশীল তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
বন্যার তাণ্ডবে সেতু ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। নেপালি কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে স্যাটেলাইটের এই তথ্যগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তিব্বতীয় সীমান্তের ওপারে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো অস্পষ্ট, কারণ ওই অঞ্চলে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত।