যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে শুরু হওয়া ডলি পার্টনের প্রবর্তিত ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ কর্মসূচিটি বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শিশুর মাঝে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছে। সম্প্রতি ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ১৯৯৫ সালে নিজের বাবার প্রতি সম্মান জানিয়ে এই দাতব্য কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। তার বাবার অকালপ্রয়াত এই শিল্পীর শৈশবে শিক্ষার সুযোগ ছিল না, আর সেই সীমাবদ্ধতা থেকেই তিনি শিশুদের জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
ইমাজিনেশন লাইব্রেরির মূল লক্ষ্য হলো জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্রতি মাসে একটি করে বিনামূল্যে বই পৌঁছে দেওয়া। টেনেসির সেভিয়ার কাউন্টি থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিটি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ডে বিস্তৃত হয়। ২০২৫ সাল নাগাদ এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটিরও বেশি বই বিতরণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের বইগুলো শিশুদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আবেগীয় বিকাশে বড় ভূমিকা রাখছে। লন্ডনের হ্যারিয়েট অ্যানসকম্ব থেকে শুরু করে আয়ারল্যান্ডের হেলেন ক্যাশেল বা অস্ট্রেলিয়ার পেইজ স্টুয়ার্টের মতো অনেক মা এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, এটি শিশুদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি অনেক পরিবারে পড়ার একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছে।
ডলি পার্টন সবসময় বিশ্বাস করতেন যে বই শিশুদের স্বপ্ন দেখতে শেখায়। নিজের এক খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, শিশুদের বই পড়তে উৎসাহিত করাই তার জীবনের অন্যতম ব্রত ছিল। তার বাবার ভাষায়, এটিই ছিল ডলি পার্টনের করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ডলি পার্টনের মৃত্যুর পর তার এই মানবিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের মাঝে বেঁচে থাকবে বলে মনে করছেন ভক্ত ও অভিভাবকরা। কোনো প্রকার প্রচার বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা না করে তিনি যেভাবে বিশ্বব্যাপী শিশুদের হাতে বই পৌঁছে দিয়েছেন, তা শিক্ষা ও সাক্ষরতার প্রসারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।