যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোতে ৯/১১ হামলার অন্যতম দুই ছিনতাইকারী নাওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহদারের তৎকালীন বাড়িওয়ালা হলি র্যাটফোর্ড প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই দুই ছিনতাইকারীকে সহায়তা করেছিলেন ওমর আল-বায়ুমি নামের এক ব্যক্তি, যিনি সৌদি আরবের একজন গোয়েন্দা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ ২৫ বছর পর হলি র্যাটফোর্ড এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন, যা ৯/১১ হামলার প্রেক্ষাপট ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চলমান ট্রিলিয়ন ডলারের আইনি লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনার পটভূমি
১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওমর আল-বায়ুমি তার পরিবারসহ স্যান ডিয়েগোর পার্কউড অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে ওঠেন, যার ব্যবস্থাপক ছিলেন হলি র্যাটফোর্ড। র্যাটফোর্ড জানান, আল-বায়ুমি শুরুতে নিজেকে বেশ অমায়িক এবং হাসিখুশি একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। কয়েক মাস পর, তিনি র্যাটফোর্ডের কাছে নাওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহদার নামের দুই ব্যক্তিকে পরিচয় করিয়ে দেন। এই দুই ব্যক্তিই পরবর্তীতে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৭৭ ছিনতাই করে পেন্টাগনে আঘাত হানে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দায়ের করা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি মামলায় আল-বায়ুমি কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন। নিউ ইয়র্কের একজন ফেডারেল বিচারক গত বছর পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন যে, আল-বায়ুমি সৌদি সরকারের নির্দেশনায় ছিনতাইকারীদের সহায়তা করেছিলেন এমন একটি যৌক্তিক সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সৌদি আরব বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। হলি র্যাটফোর্ড জানিয়েছেন, তিনি আদালতে এ বিষয়ে গোপন জবানবন্দিও দিয়েছেন।
র্যাটফোর্ডের বয়ান
আল-বায়ুমি দাবি করেছিলেন যে, তিনি ছিনতাইকারীদের সাথে পরিচয় হওয়ার পর তাদের সাথে তেমন কোনো যোগাযোগ রাখেননি। তবে র্যাটফোর্ড তার এই দাবিকে পুরোপুরি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, আল-বায়ুমিই ছিনতাইকারীদের অ্যাপার্টমেন্টের জামিনদার হয়েছিলেন এবং তাদের বাসা ভাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। এমনকি তারা ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে আল-বায়ুমি সেই অর্থ পরিশোধ করতেন এবং তাদের সাথে নিয়মিত চা ও বিস্কুট খেতেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
হামলার পর এফবিআই আল-বায়ুমিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল, কিন্তু মার্কিন বিচার বিভাগ সে সময় তাকে প্রত্যর্পণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এরপর তিনি যুক্তরাজ্য থেকে সৌদি আরবে চলে যান। বর্তমানে এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং অক্টোবর মাসে এ বিষয়ে নতুন করে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, ঘটনার পর থেকে হলি র্যাটফোর্ড শহর ছেড়ে জনমানবহীন মরু অঞ্চলে বসবাস শুরু করেছেন এবং মানুষের প্রতি তার বিশ্বাসের জায়গাটি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন।