সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুতার পুনরুত্থান: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব

August 29, 2026

সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুতার হার হঠাৎ বেড়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে এই অঞ্চলটি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় জলদস্যুরা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সোমালিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক ওমর মাহমুদ জানিয়েছেন, জলদস্যুরা এখন এটিকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে।

গত সপ্তাহে এডেন উপসাগরে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ বছর এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে জলদস্যুতার সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দস্যুদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে।

কেন এই উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদাব প্রণালীতে ইরান এবং তাদের মিত্র হুতিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তির দ্বন্দ্বের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যপথ সংকটের মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর অপারেশন কমান্ডার ভাইস-অ্যাডমিরাল ইগনাসিও ভিলানুয়েভা সেরানো বলেন, দস্যুদের ধারণা যে, আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী এখন ওই অঞ্চলের সংকট নিয়ে ব্যস্ত, ফলে সোমালিয়া উপকূলে নজরদারি শিথিল হয়েছে।

ছিনতাই ও পাল্টা হামলা

গত ১৭ আগস্ট সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের উপকূলে ক্যামেরুনের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি লুতুফ’ ছিনতাই হয়। এরপর ইয়েমেনের অদূরে ‘এমটি সিউ ১’ নামের আরেকটি তেলবাহী ট্যাংকার ছিনতাই করা হয়। লুতুফ জাহাজটি ছিনতাইয়ের পর ১৮ আগস্ট থেকে অন্তত দুটি ড্রোন হামলায় দস্যু নেটওয়ার্কের ১৩ জন সদস্য নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, জাহাজটিতে তুরস্কের সামরিক সরঞ্জাম থাকায় তুরস্ক এই হামলা চালিয়েছে।

বর্তমানে সোমালিয়ার বান্দের বেইলা বন্দরের কাছে চারটি জাহাজ জিম্মি অবস্থায় আছে, যাদের মুক্তিপণ হিসেবে লাখ লাখ ডলার দাবি করা হয়েছে। সোমালিয়ার জলদস্যুতা দমনে অতীতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর কার্যকর ভূমিকা থাকলেও দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এই অপরাধী চক্রগুলো পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দস্যুরা আরও বড় বড় জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment