ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি

August 29, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত নিয়ন্ত্রণে দেশটির সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত দ্বিগুণের বেশি হবে এবং আমেরিকানদের জন্য জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই সমঝোতাকে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

চুক্তির বিস্তারিত

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ব্যক্তিগত খাতের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই চুক্তি চূড়ান্ত করেছেন। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার ১৭টি কৌশলগত তেল ক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ এবং ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ২০৯ বিলিয়ন ডলারের কর আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই যৌথ উদ্যোগে দেশটি ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে এবং তেল ক্ষেত্র পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের কনসেশন বা ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই প্রক্রিয়ায় আমেরিকান করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।

গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট

ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুত রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। তবে গত কয়েক দশকে দেশটির উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির তেল খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিল।

ইরান সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প এই চুক্তির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে চান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এটিকে আমেরিকান ও ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই বিনিয়োগ হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং দেশটির শিল্প অবকাঠামো আধুনিকায়নে সহায়তা করবে।

Leave a Comment