অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লুকিয়ে বিপুল জ্বালানি শক্তির উৎস: গবেষক

August 30, 2026

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম অঞ্চলের মাটির নিচে বিশাল আয়রন সমৃদ্ধ স্তরে প্রাকৃতিকভাবে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরির সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন এডিস কোয়ান ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের গবেষক দলের মতে, এই অঞ্চলটির ভূ-তাত্ত্বিক গঠন কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি তৈরি ও রপ্তানি করা সম্ভব হতে পারে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পিলবারা অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেটাইট খনিজ পাওয়া যায়। ভূ-পৃষ্ঠের গভীরের উচ্চ তাপ ও চাপে এই খনিজ যখন পানির সংস্পর্শে আসে, তখন তা থেকে হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত হয়। গবেষণাগারে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং উচ্চ চাপে ম্যাগনেটাইট নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে এই সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণাটিতে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট দ্রবণ ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির নিচে হাইড্রোজেন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব। অর্থাৎ, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হাইড্রোজেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পথ সুগম হতে পারে।

এডিস কোয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আলিরেজা কেশাভারজ জানান, অস্ট্রেলিয়া কার্যত শক্তির এক বিশাল ভাণ্ডারের ওপর বসে আছে, যা কয়েক প্রজন্ম ধরে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তিনি মনে করেন, এই সম্পদের সঠিক ব্যবহার অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে পারে।

মূল গবেষক কাভেহ মোগানাহিরাহিমি বলেন, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব্যান্ডেড আয়রন ফরমেশন রয়েছে। এই বিশাল সম্পদ যদি বড় পরিসরে কাজে লাগানো যায়, তবে তা অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি ভবিষ্যতের জন্য বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। এছাড়া সংকটের সময়েও দেশটি জ্বালানি স্বনির্ভরতা বজায় রাখতে পারবে।

তবে কেবল ম্যাগনেটাইটের পরিমাণই যথেষ্ট নয়, পাথরের গঠনও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক স্টেফান ইগলাউয়ার। তিনি জানান, পাথরের ফাটল ও ছিদ্রের মাধ্যমে পানি কতটা সহজে খনিজের সংস্পর্শে আসতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করে হাইড্রোজেনের উৎপাদন ক্ষমতা। এই গবেষণার ফলাফল ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ হাইড্রোজেন এনার্জি’-তে প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Comment