কানাডার অন্টারিও প্রদেশের হ্যামিল্টনের অদূরে লেকের তীরে একটি বিশাল সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড, যার মাধ্যমে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার বিষয়ে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ফোর্ড বলেন, ট্রাম্প বা অন্য কেউ যেন ভুলে না যান যে এই লেকের নাম লেক অন্টারিও। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের ক্ষমতার আগে থেকেই এর নাম লেক অন্টারিও ছিল এবং পরেও তাই থাকবে। নীল রঙের সেই সাইনবোর্ডে বড় করে ‘লেক অন্টারিও’ লেখা রয়েছে এবং নিচে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় ‘এখন এবং সর্বদা’ বার্তাটি যুক্ত করা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের দলিলে লেকটির নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা করার নির্দেশ দেন। এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ফিল স্কটসহ অনেকেই ‘তুচ্ছ ও হতাশাজনক’ বলে সমালোচনা করেছেন। বাণিজ্য আলোচনার অচলাবস্থার মধ্যে কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের মতো ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে ডগ ফোর্ডের এই বিরোধ নতুন নয়। এর আগেও কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে ফোর্ড বলেছিলেন, তিনি এই বিষয়ে কোনো আপস করবেন না। জবাবে ট্রাম্প ফোর্ডকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে মন্তব্য করেছেন।
প্রেক্ষাপট
অন্টারিও প্রদেশ কানাডার অটোমোবাইল শিল্পের কেন্দ্রস্থল, যার সঙ্গে মার্কিন কারখানাগুলোর নিবিড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ডগ ফোর্ড এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে রাজনৈতিক তুলনা নাকচ করে দিয়ে এসেছেন। গত বছর ফোর্ডের সরকার শুল্কের বিরুদ্ধে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ট্রাম্পের এই নতুন নামকরণ কানাডার সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।