যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত গবেষকদের নেতৃত্বে এক আন্তর্জাতিক দল জানিয়েছে, মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি এখনো ত্বরান্বিত হচ্ছে। রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাবিশ্বের প্রসারণ ধীর হয়ে আসছে বলে যে দাবি গত বছর উঠেছিল, তা সঠিক নয়। গবেষকদের মতে, মহাবিশ্বের এই প্রসারণের পেছনে ডার্ক এনার্জি বা কৃষ্ণশক্তির রহস্যময় ভূমিকা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষক দল দাবি করেছিল যে মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি হয়তো কমতে শুরু করেছে এবং ডার্ক এনার্জি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই দাবি বিজ্ঞানমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফিল ওয়াইজম্যান ও তার নেতৃত্বাধীন নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পূর্বের সেই বিশ্লেষণে কিছু পদ্ধতিগত ভুল ছিল। গবেষকরা জানান, ছায়াপথের বয়স এবং সুপারনোভা বিস্ফোরণ ঘটা নক্ষত্রের বয়সের মধ্যে পার্থক্য সঠিকভাবে নিরূপণ না করায় সেই ভুল সিদ্ধান্তের উৎপত্তি হয়েছিল।
এই গবেষণায় নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী অ্যাডাম রিস ও ব্রায়ান শ্মিটসহ বিশ্বের নামকরা অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী যুক্ত ছিলেন। তারা টাইপ ১এ সুপারনোভা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্তে উপনীত হন। গবেষকদের মতে, মহাবিশ্বের প্রসারণের যে চিত্র বিজ্ঞানীদের কাছে এতদিন গ্রহণযোগ্য ছিল, তা সঠিক এবং ডার্ক এনার্জিই এই প্রসারণ বজায় রাখছে। যদিও ডার্ক এনার্জি আসলে কী, তা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে একটি অমীমাংসিত রহস্য।
প্রফেসর মার্ক সুলিভানের মতে, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অগ্রগতিরই অংশ। যদিও গত বছরের দাবিটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে, তবুও এটি মহাবিশ্বের প্রসারণ পরিমাপের পদ্ধতি এবং সুপারনোভা বিস্ফোরণ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমানের এই নতুন ফলাফল মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আগের আস্থাকেই পুনর্প্রতিষ্ঠিত করল।