দুটি অতিপরিবাহী অবস্থার রহস্য উন্মোচন করলেন ইসরায়েলি বিজ্ঞানীরা

August 31, 2026

ইসরায়েলের জেরুজালেমে অবস্থিত হিব্রু ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা অতিপরিবাহী পদার্থের ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি জটিল গঠন আবিষ্কার করেছেন। গবেষক দলের মতে, এতদিন যে অতিপরিবাহী অবস্থাকে একক হিসেবে বিবেচনা করা হতো, বাস্তবে তার ভেতরে দুটি ভিন্ন অবস্থা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে। এই আবিষ্কারটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা নিওবিয়াম ডাইসেলেনাইড (NbSe2) নামক বস্তুটি নিয়ে গবেষণা করে আসছিলেন। সাধারণত এটি একক অতিপরিবাহী অবস্থা প্রদর্শন করে বলে মনে করা হতো। তবে হিব্রু ইউনিভার্সিটির রাচ ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্সের গবেষক শাহর সিমন, মায়া ক্ল্যাং, অধ্যাপক ওডেড মিলো এবং অধ্যাপক হাদ্বার স্টেইনবার্গের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন এই গবেষণায় ভিন্ন তথ্য উঠে আসে।

উচ্চ সংবেদনশীল টানেলিং স্পেকট্রোস্কোপি পরীক্ষার মাধ্যমে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই বস্তুর ভেতরে দুটি ভিন্ন অতিপরিবাহী অর্ডার বা অবস্থা রয়েছে। এগুলোর শক্তিশালী মিথস্ক্রিয়ার কারণে বাহ্যিকভাবে এগুলোকে একটি অবস্থা বলে মনে হয়। অনেকটা একক গায়কের কণ্ঠস্বর মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে দুটি কণ্ঠের নিখুঁত সমন্বিত পরিবেশনার মতো এই অতিপরিবাহী অবস্থাগুলো কাজ করে।

একই ধরনের রহস্যময় গঠন ট্যান্টালাম ডাইসালফাইড (TaS2) নামক বস্তুর মধ্যেও শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই গবেষণার ফলাফল ফিজিক্যাল রিভিউ লেটারস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার অতিপরিবাহী বস্তুর জটিলতা ও ইলেকট্রনের আচরণ সম্পর্কে আগের ভুল ধারণা দূর করবে।

ভবিষ্যতে এই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটার, অতি-দক্ষ ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং উন্নত সেন্সর তৈরিতে আরও নিখুঁত পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীরা এখন ধারণা করছেন, ভারী বা স্থূল আকারের নিওবিয়াম ডাইসেলেনাইডের ক্ষেত্রে এই অতিপরিবাহী অবস্থা তিনটি স্তরেও বিস্তৃত থাকতে পারে, যা পদার্থবিজ্ঞানে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে।

Leave a Comment