গ্রিসের এথেন্সে নিজস্ব আকাশসীমা সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইসরায়েলের সাথে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল সামরিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই চুক্তিকে তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় সামরিক সমঝোতা হিসেবে অভিহিত করেছে। ২০২৯ সালের মধ্যে গ্রিস তাদের প্রথম মাল্টি-লেয়ারড আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক স্থাপন সম্পন্ন করবে।
প্রতিরক্ষা চুক্তির বিশদ
তিন বছর ধরে চলা আলোচনার পর চূড়ান্ত হওয়া এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি প্রকৌশলীরা গ্রিসে তিনটি ভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একীভূত করে একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করবেন। এর মধ্যে রয়েছে রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমসের ‘স্পাইডার’ সিস্টেম, ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের ‘বারাক এমএক্স’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। এছাড়া আলাদাভাবে ৩০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় ড্রোন ধ্বংসকারী ‘ড্রোন ডোম’ সিস্টেমও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ
চুক্তির পর গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোস ডেন্ডিয়াস জানান, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক কৌশলের বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ব্যালাস্টিক মিসাইল, ড্রোন, সাইবার হুমকি এবং হাইব্রিড যুদ্ধের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অকার্যকর। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং পূর্বাঞ্চল থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় গ্রিস তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাকে আধুনিক করার এই উদ্যোগ নিয়েছে। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে গ্রিস বর্তমানে তাদের জিডিপির প্রায় ৩.৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে, যা প্রতিবেশী তুরস্কের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ইসরায়েলি অস্ত্র রপ্তানির রেকর্ড
গাজা এবং লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা থাকলেও দেশটির অস্ত্র রপ্তানি রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। গত বছর ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়ে ১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।