মাত্র ১৫ মিনিটেই জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান আইবিএমের কোয়ান্টাম কম্পিউটারের

August 31, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের আইবিএম এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তারা একটি জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানে কোয়ান্টাম সুবিধার (Quantum Advantage) সক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন, যা প্রচলিত সুপার কম্পিউটারের পক্ষে সমাধান করা অসম্ভব। আইবিএমের তথ্য অনুযায়ী, তাদের তৈরি সিস্টেমটি ৭০টি এরর-কারেক্টেড লজিক্যাল কিউবিট ব্যবহার করে মাত্র ১৫ মিনিটে এই হিসাব সম্পন্ন করেছে।

প্রচলিত কম্পিউটারের সীমাবদ্ধতা কাটানোর জন্য গবেষকরা কোয়ান্টাম কম্পিউটারে নতুন এক ত্রুটি সংশোধন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এর ফলে কোয়ান্টাম সার্কিটের নির্ভরযোগ্যতা অনেক বেড়েছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, প্রচলিত পদ্ধতিতে এই সমস্যার সমাধান করতে যে পরিমাণ সময়ের প্রয়োজন হতো, তা অবাস্তব। আইবিএমের এই সফল পরীক্ষাটি কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ইতিহাসে অন্যতম বড় লজিক্যাল কম্পিউটিংয়ের নিদর্শন।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক বিল ফেফারম্যানের মতে, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরীক্ষায় তারা এমন কিছু কৌশল উদ্ভাবন করেছেন যার মাধ্যমে কোয়ান্টাম অবস্থার সঠিকতা বা বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে কোয়ান্টাম কম্পিউটার যে জটিল সমস্যার নির্ভুল সমাধান দিতে সক্ষম, তার পরিসংখ্যানগত প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আইবিএম রিসার্চের পরিচালক জে গ্যামবেটা জানিয়েছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এখন একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এই মাইলফলকটি বিজ্ঞানী, ডেভেলপার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ওপর আস্থা রাখতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যতে আরও জটিল সমস্যার সমাধানে এটি একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, শুধু দ্রুত সমাধানই যথেষ্ট নয়, বরং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ত্রুটি সংশোধন এবং ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। এই গবেষণায় লজিক্যাল কিউবিট ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর এরর রেট বা ত্রুটির হার সাধারণ ফিজিক্যাল কিউবিটের তুলনায় ১০ গুণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

Leave a Comment