যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স হেলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, শরীরের বাড়তি মেদ ও স্থূলতাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করতে শুধু শরীরের ওজন বা বিএমআই (BMI)-এর ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, কোমরের মাপ নেওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝার একটি অত্যন্ত কার্যকর ও সহজ পদ্ধতি হতে পারে। গবেষণার ফলাফল জামা নেটওয়ার্ক ওপেন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দলের প্রধান আয়ুষ ভিসারিয়া জানান, কোমরের মাপ বা বেল্টের মাপ বেড়ে যাওয়া শরীরের বাড়তি মেদের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এটি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি সম্পর্কে আগেভাগেই সতর্কবার্তা দেয়। তাই বিএমআইয়ের পাশাপাশি কোমরের পরিধি মেপে দেখা স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় ১৯০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা স্থূলতা নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতির সঙ্গে শরীরের চর্বির সঠিক পরিমাপের তুলনা করেন। তারা দেখতে পান, জটিল কোনো পদ্ধতি ছাড়াই কেবল কোমরের মাপ ব্যবহার করে স্থূলতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব।
বিএমআইয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিতর্ক চলছে। শরীরের গঠন এবং কোথায় মেদ জমেছে, বিএমআই তা পুরোপুরি দেখাতে পারে না। ফলে অনেক সময় বিএমআই স্বাভাবিক থাকলেও শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, যা এই পদ্ধতিতে চোখ এড়িয়ে যায়।
গবেষকদের মতে, কোমরের মাপ নেওয়া অত্যন্ত সহজ এবং এটি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এর মাধ্যমে চিকিৎসক ও রোগীরা খুব সহজেই শরীরের স্থূলতাজনিত ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।