যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া টেক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা মস্তিষ্কের বিবর্তন সংক্রান্ত সত্তর বছরের পুরনো ‘লিজার্ড ব্রেইন’ বা সরীসৃপ মস্তিষ্ক সম্পর্কিত প্রচলিত ধারণাটিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জর্জিয়া টেক ইনস্টিটিউট ফর নিউরোসায়েন্স, নিউরোটেকনোলজি অ্যান্ড সোসাইটির অনুষদ সদস্য নাবিল ইমামের মতে, মস্তিষ্ক বিবর্তনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে—এই ধারণাটি বিভ্রান্তিকর। বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা অনুযায়ী, মস্তিষ্ক কোনো নির্দিষ্ট স্তরে সাজানো নয়, বরং এটি দুটি ভিন্ন ধরনের স্নায়বিক কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করে।
দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় ধারণা ছিল, মানুষের মস্তিষ্ক নিচের দিকে আদিম বা ‘লিজার্ড ব্রেইন’ এবং ওপরের দিকে যুক্তিযুক্ত চিন্তাশীল নতুন অংশের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের বিবর্তন মূলত এর অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং বা সংযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে। প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য যে পরিবেশের মুখোমুখি হয়, তার ওপর ভিত্তি করে মস্তিষ্ক তার স্নায়বিক কাঠামোর একটি অংশ বাড়ায় এবং অন্যটি সংকুচিত করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের নিউওকোর্টেক্স অংশটি মূলত স্থানভিত্তিক বা ম্যাপের মতো কাজ করে, যা দৃষ্টি বা শব্দ প্রক্রিয়াজাত করতে দক্ষ। অন্যদিকে, লিম্বিক সিস্টেম বা তথাকথিত লিজার্ড ব্রেইন বারকোড স্টাইলে কাজ করে, যা স্মৃতি ও ঘ্রাণশক্তি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত। প্রাণীদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনে মস্তিষ্ক এই দুই ধরনের কাঠামোর মধ্যে স্থান বরাদ্দ করে। যেমন, ঘ্রাণশক্তির ওপর নির্ভরশীল প্রাণীদের লিম্বিক সিস্টেম তুলনামূলক বড়, আর দৃষ্টিশক্তির ওপর নির্ভরশীল প্রাণীদের নিউওকোর্টেক্স বড় হয়ে থাকে।
নাবিল ইমাম মনে করেন, এই ফলাফল এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে। বর্তমানের এআই সিস্টেম প্রচুর তথ্যের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক জন্মের আগে থেকেই নির্দিষ্ট কিছু স্থাপত্য নিয়ে গঠিত। মস্তিষ্কের এই অভ্যন্তরীণ গঠন বা নেচার এবং অভিজ্ঞতালব্ধ শিক্ষার সমন্বয়কে যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রয়োগ করা যায়, তবে এআই অনেক কম শক্তি এবং তথ্যে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।