জাপানের টোকিওতে অবস্থিত ভিডিও গেম জায়ান্ট নিন্টেন্ডো জানিয়েছে, মূল নিন্টেন্ডো সুইচ কনসোলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই। কোম্পানিটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিয়মের কারণে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে নতুন হার্ডওয়্যার সরবরাহ বন্ধ করবে। তবে এটি কনসোলটির ব্যবহারকারী বা বর্তমান সেবার ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে না। নিন্টেন্ডোর দাবি, সুইচের অনলাইন সেবা ও ই-শপ আগামী দিনের জন্য চালু থাকবে।
হার্ডওয়্যার বিক্রির চেয়ে সফটওয়্যার ও অনলাইন সেবাগুলো ধাপে ধাপে বন্ধ করার কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে নিন্টেন্ডো। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯০ হাজার ইউনিট নিন্টেন্ডো সুইচ বিক্রি হয়েছে, যা এটিকে কোম্পানির ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় কনসোলে পরিণত করেছে। এমনকি নতুন সুইচ ২ কনসোল বাজারে আসার পরও পুরোনো সুইচে গেম খেলা অব্যাহত রয়েছে।
নিন্টেন্ডোর প্রেসিডেন্ট শুনতারো ফুরুকাওয়া জানিয়েছেন, সুইচ ২ কনসোলটি পুরোনো সুইচের গেমগুলোর সঙ্গে ব্যাকওয়ার্ড কম্প্যাটিবিলিটি বজায় রাখছে। অর্থাৎ, নতুন কনসোলের ব্যবহারকারীরা চাইলেও পুরোনো গেম খেলতে পারছেন। এর ফলে পুরোনো কনসোলটি রাতারাতি অচল হয়ে পড়ছে না। তবে বর্তমানে কোম্পানিটি নতুন কোনো ফার্স্ট-পার্টি গেম পুরোনো সুইচের জন্য তৈরির পরিকল্পনা করছে না।
নিন্টেন্ডোর অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, উই (Wii) বা থ্রিডিএস (3DS) কনসোলের ক্ষেত্রে অনলাইন সেবা এবং স্টোর বন্ধ করার প্রক্রিয়াটি কয়েক বছরের ব্যবধানে সম্পন্ন হয়েছে। সুইচের ক্ষেত্রেও এমনটিই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, গেম কেনা বন্ধ হলেও আগে কেনা গেমগুলো ডাউনলোড বা খেলার সুযোগ গ্রাহকরা আরও অনেক দিন পাবেন।
কনসোলের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাটারি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিন্টেন্ডোর তথ্য অনুযায়ী, ৮০০ বার চার্জ দেওয়ার পর ব্যাটারির সক্ষমতা প্রায় ৮০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এটি কোনো ত্রুটি নয় বরং স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ব্যাটারি দুর্বল হয়ে পড়লে সেটি পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও কাজটি বেশ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। তবে ব্যাটারি পুরোনো হলেও কনসোলটি টিভির সঙ্গে যুক্ত করে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।