উত্তর সাইপ্রাসের কাইরেনিয়া উপকূলে ফেরিডুবির ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ থেকে তুরস্ক যাওয়ার পথে রবিবার ফেরিটি উল্টে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আয়তেন বিসারের ১২ বছর বয়সী মেয়ে মিরা এবং ছয় বছরের ছেলে মেহমেত আসাফও রয়েছে। এ ঘটনায় শোকার্ত মা আয়তেন বিসার সংবাদমাধ্যমের কাছে তার চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আয়তেন জানান, ফেরিটি উল্টে যাওয়ার সময় একটি স্যুটকেস তার ওপর পড়ে। এতে তার মেয়ের হাত আলগা হয়ে যায়। তিনি কোনোমতে মেয়ের পা ধরে ফেললেও ইঞ্জিন অয়েলের কারণে তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় মেয়েটি হাত ফসকে সমুদ্রের অতল গহ্বরে তলিয়ে যায়। তার স্বামী হাইরি বিসার বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে পারিনি, তাদের এই দ্বীপেই রেখে যেতে হচ্ছে।
ফেরিতে মোট ২৫৯ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু ছিলেন। আহত ১৯ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর ফেরির ক্যাপ্টেনসহ আটজন ক্রু এবং আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
ফেরিতে যান্ত্রিক ত্রুটি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দায়ী কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরিটির যাত্রা শনিবারের পরিবর্তে রবিবার নির্ধারণ করা হয়েছিল। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সমুদ্রের প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি উল্টে যায়। উত্তর সাইপ্রাসের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, পরপর দুটি ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে।
ফেরির ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রের ৫১৪ মিটার গভীরে তলিয়ে গেছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য তুরস্ক থেকে বিশেষ জাহাজ পাঠানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার জেরে সোমবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ফেরির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।