যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিশ্লেষক ডেভ মাইকেলহ্যাম সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, গেমিংয়ের জন্য ৫কে (5K) মনিটরের চেয়ে ৪কে (4K) মনিটর কেন বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর। গেমারদের মধ্যে উচ্চ রেজোলিউশনের প্রতি আগ্রহ থাকলেও, গেমিং অভিজ্ঞতার মান ও দামের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ৪কে মনিটরই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কেন ৫কে গেমিংয়ের জন্য আদর্শ নয়
৫কে মনিটরে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ পিক্সেল থাকে, যা ৪কে-এর চেয়ে ৭৭ শতাংশ বেশি। এই বাড়তি স্বচ্ছতা মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইনার বা ভিডিও এডিটরদের মতো পেশাদারদের জন্য। কিন্তু গেমারদের ক্ষেত্রে এই বাড়তি পিক্সেল গেমিং পারফরম্যান্সে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ৫কে রেজোলিউশনে আধুনিক গেমগুলো চালাতে অত্যন্ত শক্তিশালী জিপিইউ প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ সাধারণ গেমারের নাগালের বাইরে।
দাম ও পারফরম্যান্সের তুলনা
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি ৪কে মনিটর বর্তমানে ২০০ ডলারের আশেপাশে পাওয়া সম্ভব, যেখানে ৫কে মনিটরের দাম সাধারণত ৬৫০ ডলার বা তার চেয়ে বেশি শুরু হয়। এছাড়া ৪কে মনিটরগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে ২৪০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট পাওয়া যায়, যেখানে ৫কে মনিটরগুলো ১৬৫ থেকে ১৮০ হার্টজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। দ্রুত গতির গেম খেলার জন্য এই রিফ্রেশ রেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
পিক্সেল ডেনসিটির গুরুত্ব
মনিটর কেনার সময় কেবল রেজোলিউশন নয়, বরং পিক্সেল পার ইঞ্চ (PPI) বা পিক্সেল ঘনত্বের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। বড় মনিটরে রেজোলিউশন বেশি হলেও পিক্সেল ঘনত্ব কম হলে ছবি অস্পষ্ট মনে হতে পারে। তাই বাজেট এবং প্রয়োজনের ভারসাম্য বজায় রেখে ২৭ ইঞ্চির ৪কে মনিটর গেমারদের জন্য সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানের এআই-ভিত্তিক আপস্ক্যালিং প্রযুক্তি যেমন এনভিডিয়া ডিএলএসএস (DLSS) বা এএমডি এফএসআর (FSR) ব্যবহার করে ৪কে মনিটরেই অত্যন্ত চমৎকার গেমিং অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব। তাই সাধারণ গেমারদের জন্য ৫কে মনিটরে বাড়তি বিনিয়োগ না করে ৪কে মডেল বেছে নেওয়াই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।