যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট-এর প্রতিবেদক ম্যাক মিলার বিভিন্ন ডিসপ্লে রেজোলিউশনের পার্থক্য এবং ব্যবহারকারীর জন্য সেগুলোর উপযোগিতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে গেমার এবং পেশাদার ভিডিও সম্পাদকদের জন্য ডিসপ্লে প্রযুক্তির জটিল সব পরিভাষা সহজভাবে তুলে ধরাই এই প্রতিবেদনের মূল উদ্দেশ্য।
কিউএইচডি ও ডব্লিউকিউএইচডি
স্মার্টফোন বা পিসি মনিটর কেনার সময় কিউএইচডি (QHD) এবং ডব্লিউকিউএইচডি (WQHD) নিয়ে অনেকের মনেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। মূলত এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কিউএইচডি বা কোয়াড হাই ডেফিনিশন এবং ডব্লিউকিউএইচডি বা ওয়াইড কোয়াড হাই ডেফিনিশন—উভয়ই ২,৫৬০ x ১,৪৪০ পিক্সেল রেজোলিউশনকে বোঝায়, যা ২কে হিসেবে পরিচিত। সাধারণত ১৬:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিওতে এগুলো ব্যবহৃত হয়। সাধারণ স্মার্টফোন বা মাঝারি বাজেটের গেমিং পিসির জন্য এটি একটি আদর্শ রেজোলিউশন।
৪কে রেজোলিউশনের ব্যবহার
টেলিভিশন এবং হাই-এন্ড গেমিংয়ের জন্য ৪কে রেজোলিউশন অত্যন্ত জনপ্রিয়। টেলিভিশনগুলোতে সাধারণত ৩,৮৪০ x ২,১৬০ পিক্সেল রেজোলিউশন ব্যবহৃত হয়, যা ইউএইচডি ৪কে নামে পরিচিত। অন্যদিকে, সিনেমা হলগুলোতে ডিআইসি ৪কে মানদণ্ড অনুযায়ী ৪,০৯৬ x ২,১৬০ পিক্সেল রেজোলিউশন ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে শক্তিশালী গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে হাই-এন্ড গেমিংয়ের জন্য ৪কে ডিসপ্লে বেশ উপযোগী হয়ে উঠেছে।
৫কে রেজোলিউশনের প্রয়োজনীয়তা
৫কে রেজোলিউশন মূলত সৃজনশীল পেশাজীবীদের কাজের জন্য বেশি কার্যকর। ৫,১২০ x ২,৮৮০ পিক্সেল রেজোলিউশনের এই ডিসপ্লেগুলো ভিডিও বা ছবি সম্পাদনার ক্ষেত্রে বেশ সুবিধাজনক, কারণ এটি ৪কে কন্টেন্ট পূর্ণ রেজোলিউশনে দেখার পাশাপাশি টুলবার রাখার পর্যাপ্ত জায়গা দেয়। অ্যাপল স্টুডিও ডিসপ্লে এক্সডিআর বা ডেল আল্ট্রাশার্পের মতো মনিটরগুলো মূলত এই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। তবে গেমিংয়ের জন্য ৫কে রেজোলিউশন বর্তমানে খুব বেশি প্রচলিত নয় এবং এটি বেশ ব্যয়বহুল।