হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী নেতা জোশুয়া ওংয়ের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সাথে যোগসাজশের দোষ স্বীকার

September 2, 2026

চীনের হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা জোশুয়া ওং বিদেশি শক্তির সাথে যোগসাজশের অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। বেইজিংয়ের প্রণয়ন করা বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএল) আওতায় এই অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ২৯ বছর বয়সী ওং বর্তমানে হংকংয়ের রাজনৈতিক সক্রিয়তার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০২৪ সালের শেষ দিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে চার বছর আট মাসের কারাদণ্ড পেয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন ওং। আগামী বছর তার বর্তমান সাজা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন করে এই অভিযোগ ওঠায় তাকে আরও দীর্ঘ সময় কারাভোগ করতে হতে পারে। আদালত পরবর্তী কোনো এক তারিখে তার সাজার মেয়াদ ঘোষণা করবেন।

অভিযোগের বিস্তারিত

২০২০ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে ওং এবং তার সহযোগীরা বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ আরোপের অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ওং এবং নির্বাসিত কর্মী নাথান লসহ অন্যান্যরা যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ইতালিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক লবিং করেছিলেন। তারা হংকং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট বাস্তবায়নেও ভূমিকা রেখেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে কার্যকর হয়েছিল।

প্রতিক্রিয়া

আদালতে ওংয়ের প্রায় ৪০ জন সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তারা তাকে সাহস জোগাতে স্লোগান দেন, যার জবাবে ওং মাথা নেড়ে হাসি মুখে প্রতিক্রিয়া জানান। তার সমর্থকরা জানিয়েছেন, ওং ইতোমধ্যে দুই হাজার দিনের বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এই কর্মী কারাগারে থাকা অবস্থাতেও গিটার শেখা এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে মানসিকভাবে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।

আইনের প্রভাব

২০২০ সালে এই জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রবর্তনের পর থেকেই হংকংয়ে রাজনৈতিক মতভিন্নতাকে কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। তবে বেইজিং এবং হংকং কর্তৃপক্ষ বরাবরই দাবি করে আসছে যে, হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ হয়নি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই আইন অপরিহার্য।

Leave a Comment