লেবাননের ভেতরে অবস্থান শক্তিশালী করছে ইসরায়েল, ধ্বংস করা হচ্ছে গ্রাম

September 2, 2026

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাকৌরা সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা এবং সামরিক অবস্থান প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত করছে বলে বিবিসি’র অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলা থেকে উত্তরের বাসিন্দাদের রক্ষায় একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইউনিফিল-এর তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নতুন চারটি ঘাঁটি স্থাপন করেছে, যার ফলে বর্তমানে সেখানে তাদের মোট ৯টি সামরিক অবস্থান রয়েছে। বিবিসি’র একটি দল ইউনিফিলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় ওই এলাকা পরিদর্শনের সময় সেখানে ইসরায়েলি সৈন্যদের ব্যাপক তৎপরতা এবং বেসামরিক ভবন ব্যবহারের প্রমাণ দেখেছে। ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা পেতে অনেক ভবনে জাল ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ এবং সামরিক প্রকৌশলমূলক কাজ চলতে দেখা গেছে।

লেবাননের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, জুন মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী পাঁচ হাজারেরও বেশি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং লেবাননের ভেতরে নিয়মিত সামরিক অনুপ্রবেশের ঘটনাও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ইসরায়েল মূলত এমন পরিবেশ তৈরি করছে যাতে সাধারণ মানুষ তাদের গ্রামে ফিরে আসতে না পারে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ড বেসামরিক অবকাঠামোর ইচ্ছাকৃত ধ্বংসযজ্ঞ, যা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা শুধুমাত্র হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত সামরিক স্থাপনাগুলোই ধ্বংস করছে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বর্তমানে লেবাননের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব উঠলেও হিজবুল্লাহর কঠোর অবস্থান এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে তা সফলতার মুখ দেখেনি। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, পরিস্থিতি বর্তমানে গাজার মতো রূপ নিচ্ছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment