অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লেন কোভ এলাকায় নতুন করে চারটি ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবাসিক এলাকার কাছাকাছি এসব বিশাল স্থাপনা থেকে সৃষ্ট শব্দদূষণ এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানসহ অনেক বিনিয়োগকারী অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের ডেটা সেন্টার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা বললেও, এর নেপথ্যের উচ্চমূল্য ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬২টি ডেটা সেন্টার রয়েছে এবং আরও ৯০টি নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে, যা বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে দেশটিতে শক্তির চাহিদাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে এসব সেন্টারের শক্তির চাহিদা মেটাতে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
বিদ্যুতের পাশাপাশি পানির চাহিদাও একটি বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রতিটি ডেটা সেন্টার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করে। সিডনি ওয়াটারের তথ্যমতে, ২০৩৫ সাল নাগাদ সিডনির মোট খাবার পানির ২৫ শতাংশ পর্যন্ত খরচ হতে পারে এসব তথ্যকেন্দ্রে। এতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের পানির প্রাপ্যতা ও খরচ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এর পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়েও দেখা দিয়েছে জটিলতা। লেন কোভের উপ-মেয়র রোশেল ফ্লাড জানান, নতুন তথ্যকেন্দ্রগুলোর জন্য বর্তমান অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জায়গা ছাড়তে হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও নিউ সাউথ ওয়েলসের ট্রেজারার ড্যানিয়েল মুকি বলছেন, ডেটা সেন্টারগুলো নতুন শিল্পের বিকাশ এবং গ্রিন এনার্জি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করবে, তবুও টেকসই উন্নয়নের প্রশ্নে স্থানীয়রা এখনও সংশয় প্রকাশ করছেন।