আফ্রিকার তানজানিয়ার তুন্দুমা শহরে অঙ্গ চুরির মিথ্যা গুজবে পড়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বনিফেস মাগালা নামের এক মেকানিক। বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ছয়টি আফ্রিকান দেশে এমন ভুয়া অভিযোগে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকেই মূলত এসব সহিংসতার সূত্রপাত হচ্ছে।
মাগালা জানান, এপ্রিল মাসে এক রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় হঠাৎ একটি উত্তেজিত জনতা তাকে ও তার বন্ধুকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসে। তারা চিৎকার করছিল যে, আমরা একজনের গোপনাঙ্গ চুরি করেছি। ওই হামলায় মাগালার বন্ধু নিহত হন এবং তিনি নিজেও গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পটভূমি
এই গুজবের মূল ভিত্তি হলো অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস এবং কুসংস্কার, যা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভিডিওতে দাবি করা হয় যে, অচেনা কারোর স্পর্শে পুরুষের গোপনাঙ্গ অদৃশ্য হয়ে যায় বা ছোট হয়ে যায়। গত বছর ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো থেকে শুরু হওয়া এই গুজব পরবর্তীতে বুরুন্ডি, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, মালাউই ও কেনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই না করেই মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়ছে। মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল চ্যাপো এসব গুজবকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, শরীরের অঙ্গ হারিয়ে যাওয়ার কোনো মেডিকেল প্রমাণ কোথাও পাওয়া যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে ভিউ বাড়ানোর জন্য কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
কেনিয়ায় এই গুজবে পাঁচজন নিহত হওয়ার পর পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে সরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মেটা জানিয়েছে, তারা তাদের প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতামূলক ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করছে এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারী কন্টেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।