আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল উত্তোলনে যুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে মন্ত্রিসভার সদস্যদের উপস্থিতিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ হুমকি দেন। ফকল্যান্ডসের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ এই ইস্যুতে এটি নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
প্রেসিডেন্ট মিলেই বলেন, সি লায়ন অয়েলফিল্ডে ব্রিটিশ ও ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের তেল অনুসন্ধানের পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার জন্য একটি বর্তমান ও স্পষ্ট বিপদ। ফকল্যান্ডস ঐতিহাসিকভাবে ও আইনত আর্জেন্টিনার অংশ বলে তিনি দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্য জাতিসংঘ রেজুলেশন লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে এই কাজ করছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই হুমকির প্রেক্ষিতে বলেছেন, ফকল্যান্ডসের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান অটল। সেখানকার দ্বীপবাসীরা ব্রিটিশ শাসনের অধীনেই থাকতে চান এবং তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের অধিকার রয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের বক্তব্য মূলত আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কৌশল মাত্র।
সি লায়ন অয়েলফিল্ডে ১.৭ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে তেল উত্তোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রকহপার এক্সপ্লোরেশন এবং ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান নাভিটাস পেট্রোলিয়াম। তবে কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, এই আইনি জটিলতার কারণে তাদের প্রকল্পে কোনো বড় প্রভাব পড়বে না।
ফকল্যান্ডসের সাবেক আইনপ্রণেতা টেসলিন বার্কম্যান বলেন, মিলেইর এই বক্তব্যে সেখানকার অধিবাসীরা ক্ষুব্ধ। ১৯৮২ সালে এই অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধের পর থেকে এলাকাটি ব্রিটিশদের দখলে রয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিলেইর জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী হওয়ায় স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফলের আশায় তিনি ফকল্যান্ডস ইস্যুটিকে সামনে এনেছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।