যুক্তরাষ্ট্রের দেশজুড়ে আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বা মেইল-ইন ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র আইনি লড়াই শুরু হয়েছে, যা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে মেইল-ইন ভোটিংয়ের ওপর কড়াকড়ি আরোপের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল একজন হুইসেলব্লোয়ারের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে জানিয়েছেন, ডাক বিভাগের বর্তমান ব্যবস্থাপনা ভোটদানের অধিকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন যে, ডেমোক্রেটিক পার্টি নির্বাচনে কারচুপি করছে। এই দাবির স্বপক্ষে তিনি কোনো অকাট্য তথ্য না দিলেও ডাকযোগে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে নতুন নতুন নিয়ম প্রবর্তন করছেন। এর আওতায় প্রতিটি ব্যালট পেপারে বিশেষ বারকোড যুক্ত করা এবং তালিকাভুক্ত ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পদক্ষেপের ফলে বিপুল সংখ্যক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
গত আগস্টের শেষের দিকে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সংস্কার প্রস্তাবের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে জটিলতা আরও বাড়ে। তবে ম্যাসাচুসেটসের একটি আদালতের নির্দেশে নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এদিকে, হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগে বলা হয়েছে, ডাক বিভাগ নতুন এই নিয়মগুলো দ্রুত কার্যকর করতে গিয়ে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। সফটওয়্যার সিস্টেমের ত্রুটির কারণে অনেক ব্যালট বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ইতিহাসে ডাকযোগে ভোটের ব্যবহার ব্যাপক। নির্বাচনী সহায়তা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার এই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছিলেন। ওরেগন ও ওয়াশিংটনের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে অধিকাংশ ভোটার ডাকযোগেই ভোট দেন। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের এসব বিধিনিষেধ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই বছরে মার্কিন ভোটারদের আস্থা ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে।