ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা দাবানল থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনে। ইন্দোনেশিয়ার বন ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সুপার এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র খরা পরিস্থিতি দাবানলকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এই ধোঁয়া জনস্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বাতাসের মান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ১৫ গুণ বেশি অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্ট মাসে দাবানল ও বন উজাড়ের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়ার প্রভাবে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে, যাদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। দক্ষিণ কালিমন্তানের বানজারবারুর স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ধোঁয়ার তীব্রতায় ঘরের ভেতরও শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশেও বাসিন্দারা চোখ জ্বালাপোড়া এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যায় ভুগছেন। এদিকে মালয়েশিয়ায় বাতাসের মান খারাপ হওয়ায় হাঁপানি ও চোখের সংক্রমণের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ইন্দোনেশিয়ার বনমন্ত্রী রাজা জুলি আন্তোনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাস এল নিনোর চূড়ায় অবস্থান করায় দাবানল নেভানোর লড়াই এখন অত্যন্ত সংকটময় পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে সুহার্তো আমল থেকে শুরু হওয়া বড় আকারের শিল্প প্রকল্প ও পাম তেলের বাগান তৈরির ইতিহাস দায়ী। ড্রেন করা পিটল্যান্ড বা জলাভূমিগুলো শুষ্ক অবস্থায় ‘কার্বন বোমা’ হিসেবে কাজ করে, যা পরিবেশের ভারসাম্যকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। ইনস্টিটিউট পার্তানিয়ান বোগোর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বামবাং হেরো সাহারজো সতর্ক করেছেন যে, এবারের এল নিনোর প্রভাবে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে যেতে পারে, যা ১৯৯৭-৯৮ সালের ভয়াবহ দাবানলের সমান।