নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তারা উত্তর আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সংকটকালীন যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবহারের সুবিধার্থে এই স্বর্ণ লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ওলাফ স্লাইপেন জানিয়েছেন, এটি মূলত দেশের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ।
কেন এই স্থানান্তর
নেদারল্যান্ডস মোট ৮৬ টন স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এর আগে ফ্রান্সও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের স্বর্ণের মজুদ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। মূলত বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ও সামরিক উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা থেকেই দেশগুলো তাদের স্বর্ণের মজুদ নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লন্ডনের অবস্থান বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হওয়ায় সংকটকালে দ্রুত স্বর্ণ লেনদেনের জন্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বর্ণের নিরাপত্তা ও কৌশল
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট জোসেফ ক্যাভাটনি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র যুদ্ধ বা বাণিজ্য সংঘাতই এর প্রধান কারণ নয়। মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এবং মজুদ সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়গুলোও এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের রিজার্ভ হিসেবে স্বর্ণের সংগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্বর্ণের বর্তমান অবস্থান
গ্লোবাল গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বছরে গড়ে ১০০০ টন করে স্বর্ণ জমা করেছে, যা আগের দশকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক বিশ্বে নিজস্ব ভল্টে স্বর্ণ রাখা যেমন নিরাপত্তার বিষয়, তেমনি এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুলও বটে। তাই অনেক দেশই এখন লন্ডনকে তাদের স্বর্ণের নিরাপদ ভাণ্ডার হিসেবে বেছে নিচ্ছে।